সব সাংবাদিককে গালিগালাজ করেননি, বরং ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করেন—এমন সাংবাদিকদের সমালোচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তাহরিকে খতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে যেসব সাংবাদিক নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন, মূলত তাঁদেরই সমালোচনা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সাংবাদিকদের প্রতিও তাঁর ক্ষোভ ছিল।
ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে আব্বাসি বলেন, অভিযানের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও পিস্তল উঁচিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পদ্ধতি সঠিক ছিল না। তবে তাঁর অভিযোগ, একদল সাংবাদিক অভিযানটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন। গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হলে ইশরাককে পদ হারাতে হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যায় আব্বাসি বলেন, তিনি সব সাংবাদিককে এক কাতারে রাখেননি। তাঁর ভাষ্য, বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে সমাজকে ভুল বার্তা দেন এবং ইশরাকের অভিযানকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেন—এমন সাংবাদিকদের প্রতিই তাঁর ক্ষোভ ছিল।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আব্বাসি।
ওই মাহফিলে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্যই এটা ঠিক। তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটা খারাপ ছিল, উদ্দেশ্য মহৎ ছিল। কিন্তু একদল সাংবাদিক সেটা নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছে।’
সাংবাদিকদের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকেরা ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করলে ইশরাকের অভিযান নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। এরপর ‘হলুদ সাংবাদিকদের’ উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এদেরকে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’
এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সাংবাদিকদের মারধরের আহ্বান হিসেবে বিবেচিত তাঁর মন্তব্যটি সমালোচনার জন্ম দেয়।
বক্তব্যের অন্য অংশে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্বাসি।
জি বাংলা ডেস্ক